গাঁজা নিয়ে কিছু কথা!

গাঁজা নিয়ে কিছু কথা, (কি, কেনো, পরিচিতি, প্রস্তুতি, ব্যবহার পদ্ধতি, ভেষজ গুণ, প্রভাব, শারীরিক ক্ষতি)
———-গাঁজা!—————

সাধারণত মারিজুয়ানা, গঞ্জিকা, গাঞ্জা, সিদ্ধি ইত্যাদি হিসেবে পরিচিত।

গাঁজা দীর্ঘকাল ধরে বীজ ও বীজ তেল, ঔষধি উদ্দেশ্যে এবং একটি বিনোদনমূলক ড্রাগ হিসাবে শণ আঁশের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আঁশের উৎপাদন বৃদ্ধি নির্বাচন করতে বাণিজ্যিক শণ পণ্যসমূহ গাঁজা গাছ থেকে তৈরি করা হয়।ভিন্ন ভিন্ন নামে বিভিন্ন দেশে এর বিস্তার। গাঁজা গাছের শীর্ষ পাতা, ডাল এবং ফুল যা এই উপমহাদেশে গাঁজা নামে পরিচিত একই জিনিস পশ্চিমা দেশ গুলোতে মারিজুয়ানা বা মারিহুয়ানা নামে পরিচিত। গাছের পাতা বা ডালের আঠালো কষ দিয়ে তৈরী এ অঞ্চলের চরস নামের জিনিসটিই পশ্চিমা দেশের হাশিশ।[২] ভাং, সিদ্ধি, পাট্টি, সব্জি, গ্রাস, মাজুন নানা নামে ডাকা হয় এই বিষাক্ত বস্তুটিকে। (কেন বিষাক্ত বস্তু বলা হলো? যুক্তি প্রমান কি?)

[›] মূলত গাঁজা উদ্ভিদের এক ধরণের প্রস্তুতি যা সাইকোঅ্যাক্টিভ ড্রাগ এবং ঔষধ হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয়। ফার্মাকোলজিক্যালি, গাঁজার প্রধান সাইকোঅ্যাক্টিভ উপাদান হল টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিনল (টিএইচসি)। এটি উদ্ভিদের ৪৮৩টি পরিচিত যৌগের ১টি, এছাড়াও ৮৪ টি অন্যান্য ক্যানাবিনোয়েড্‌স রয়েছে, যেমন ক্যানাবিডিওল (সিবিডি), ক্যানাবিনল (সিবিএন), টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিভারিন (টিএইচসিভি), এবং ক্যানাবিগেরো (সিবিজি)।

গাঁজা প্রায়ই এর সাইকোঅ্যাক্টিভ এবং শারীরবৃত্তীয় প্রভাবের জন্য ব্যবহৃত হয়, যা অতিরিক্ত বা রমরমা মেজাজ, শিথিলায়ন, এবং ক্ষুধা বৃদ্ধি করে। সম্ভাব্য পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে স্বল্পমেয়াদী স্মৃতি হ্রাস, মুখগহ্বরে শুষ্কতা, অনভিজ্ঞের মতো আচরণ করা, চোখ লাল হওয়া, এবং প্যারানয়া বা উদ্বেগ অনুভূতি হওয়া। আধুনিককালে গাঁজা বিনোদনমূলক বা চিকিৎসার ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে এবং প্রাথমিককালে ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক আচার-অনুষ্ঠানের অংশ হিসাবেও খ্রিষ্টপূর্ব ৩ হাজার বছর পূর্বে এর ব্যবহার হত। ২০শ-শতাব্দীর প্রথমদিকে গাঁজা আইনি সীমাবদ্ধতার বিষয় হয়ে উঠে, ফলে এর ব্যবহার এবং সাইকোঅ্যাক্টিভ ক্যানাবিনয়েডস ধারণকারী গাঁজা প্রস্তুতি ও বিক্রয় বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ দেশে অবৈধ। জাতিসংঘ একে বিশ্বের সর্বাধিক ব্যবহৃত অবৈধ ড্রাগ হিসেবে বিবেচনা করে। ২০০৪ সালে, জাতিসংঘের অনুমানে, বিশ্বব্যাপী বার্ষিক গাঁজার ব্যবহারে বিশ্বের প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার প্রায় ৪% (১৬২ লক্ষ জন) গাঁজা বাবদ ব্যয় করে, এবং প্রায় ০.৬% (২২.৫ লক্ষ) লোক দৈনিক গাঁজা ব্যবহার করে থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে মারিজুয়ানা বা গাঁজা মূলত চিকিৎসক-প্রস্তাবিত ভেষজ থেরাপি হিসাবে গাঁজা উদ্ভিদের ব্যবহার বোঝায়, যা ইতোমধ্যে কানাডা, বেলজিয়াম, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ড, স্পেন, এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩২টি রাজ্যে স্থান করে নিয়েছে।

———–প্রস্তুতি————

মারিজুয়ানা :

মারিজুয়ানা বলতে শুকনো ফুল এবং স্ত্রী গাঁজা উদ্ভিদের কচি পাতা ও ডালপালাকে বুঝায়। এটি গাঁজার সর্বাধিক প্রচলিত ধরন যার মাঝে টিএইচসি এর পরিমাণ থাকে ৩%-২০% এছাড়াও সর্বোচ্চ ৩৩% টিএইচসি ও অনেক ধরনের মাঝে পাওয়া যায়। এছাড়াও, বিভিন জাতের মিশ্রণ ঘটিয়ে গাঁজার শিল্প উৎপাদন করা হয় যেখানে টিএইচসি এর পরিমাণ থাকে ১% এবং এ কারনে এটি বিনোদনমূলক ব্যবহারের অনুপযোগী।

কিফ :

কিফ ট্রিকহোম সমৃদ্ধ একধরণের গুঁড়া, যা গাঁজা গাছের ফুল ও পাতা থেকে সংগ্রহ করা যায় এবং একে গুঁড়া অবস্থায় সেবন বা হ্যাশিশ কেক উৎপাদনের জন্য প্রক্রিয়াজাত করা হয়। “কিফ” শব্দটি চলিত আরবি كيف kēf/kīf থেকে এসেছে, যার অর্থ পরিতোষ বা সন্তুষ্টি বোঝায়।

হাশিশ

হাশিশ (এছাড়াও হাশীশ, হাশিশা, বা কেবল হ্যাশ নামে পরিচিত) একধরণের ঘনীভূত রজন কেক বা বল বিশেষ যা, গাঁজার ফুল এবং পাতা থেকে নিঃসৃত ট্রিকহোম এবং উত্তম উপাদানসমন্বিত কিফ থেকে চিপে উৎপাদন করা হয়। এটি খাওয়া কিংবা ধোঁয়া হিসেবে পান করা হয়।

হ্যাশ তেল

হ্যাশ তেল গাঁজা উদ্ভিদ থেকে দ্রাবক নিষ্কাশনের মাধমে পাওয়া যায়।

আধান (দুগ্ধ মাখন)

অনুদ্বায়ী দ্রাবক ব্যবহৃত গাঁজার আধান আরোপের বিভিন্ন ধরন রয়েছে। দুধ এর সাথে পাতার মিশ্রন।

বিমিশ্র গাঁজা

দূষণকারী মূলত “সাবান বার” ধরনের উৎস থেকে প্রাপ্ত হাশিশ থেকে পাওয়া যেতে পারে।

———–ব্যবহার পদ্ধতি ———

গাঁজা বিভিন্ন উপায়ে ব্যবহার করা হয়:

১.ধূমপান

২.বাষ্পীভূত

৩.গাঁজার চা

৪.এডিবল

———–ভেষজ গুণ—————

গাঁজা শরীরের বিষ-ব্যথা সারায়। এ কথার বর্ণনা রয়েছে ভারতবর্ষের প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় চিকিৎসাশাস্ত্রে। তবে এ কথাও সুবিদিত যে, গাঁজা, ভাং ও মারিজুয়ানা গ্রহণ মানুষের স্মরণশক্তি হ্রাস করে এবং দীর্ঘ মেয়াদে মনোবৈকল্য ঘটায়। যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা এখন গাঁজা, ভাং ও মারিজুয়ানার ওপর গবেষণা করে জেনেছেন, এ সব মাদকদ্রব্য থেকে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন ব্যথানাশক ওষুধ প্রস্তুত করা সম্ভব, যা মানুষের কোনো ক্ষতি করবে না। গবেষণাটি করেছে ফ্রান্সের বায়োমেডিকেল ইনস্টিটিউট। এর নেতৃত্ব দিয়েছে আইএনএসইআরএম। ফ্রান্সের গবেষকরা জানান, ‘তারা ইঁদুরের মস্তিষ্কের যে অংশের কোষের নিউরনে গাঁজা বা মারিজুয়ানার মাদক ক্রিয়া করে তা ওষুধ প্রয়োগ করে নিষ্ক্রিয় করেন প্রথম। এর পর ওই ইঁদুরের শরীরে এসব মাদক প্রবেশ করিয়ে দেখা গেছে, তাতে ইঁদুরটি বেহুশ হয় না। বরং ওটির প্রাণচাঞ্চল্য ঠিকই থাকে। এ অভিজ্ঞতা থেকে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ব্যথানাশক হিসেবে গাঁজা বা মারিজুয়ানার ভালো গুণ মানুষের বিভিন্ন রোগের ওষুধ এবং অস্ত্রোপচারের জন্য চেতনানাশক হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। শিগগিরই গাঁজা ও মারিজুয়ানার নির্যাস থেকে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন এ ওষুধ প্রস্তুত হবে। আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া ও আলাবামা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা এক গবেষণায় দেখেছেন, ভাং ও গঞ্জিকা সেবনে ফুসফুসের ক্ষতি তামাক পাতায় প্রস্তুত সিগারেট পানের চেয়ে কম।

 

———–গাঁজার প্রভাব————-

উদ্ভিদে রাসায়নিক যৌগ থাকার কারণে প্রাথমিকভাবে এর প্রভাব পড়ে। সুনির্দিষ্ট স্থান যা ক্যানাবিনয়েড সহ, যেমন- টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিবল (THC) এর মত ১০০ টিরও বেশি বিভিন্ন উদ্ভিদে এই রাসায়নিক যৌগের উপস্থিতি রয়েছে। গাঁজা মানব দেহের উপর বিভিন্ন মনস্তাত্ত্বিক এবং শারীরবৃত্তীয় ফেলে। গাঁজার বিভিন্ন জাতেই THC থাকে এবং অন্যান্য ক্যানাবিনয়েড ফার্মাকোলজিকাল প্রভাব আছে। যতটুকু উদ্বেগ এর মধ্যে প্রবেশ করানো যায় এর প্রভাব ততটা বেশি হয়। গাঁজায় ক্যানাবাইডল (CBD) নামে আরেক ধরণের ক্যানাবাইনয়েড আছে যেটি ভোক্তাদের মধ্যে বিদ্রুপ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। গাঁজাকে বলা হয় ‘গেট-ওয়ে ড্রাগ’, অর্থাত্‍ নেশায়  হাতেখড়ি হয় গাঁজার মাধ্যমে।

–গাঁজা কিভাবে মস্তিষ্ককে প্রভাবিত করে ?

বিজ্ঞানীরা গবেষণার মাধ্যমে জানতে পেরেছেন যে, গাঁজা সেবনের পরপরই টিএইচসি ফুসফুসের মধ্যে দিয়ে শোধিত হয়ে রক্তপ্রবাহের সাথে মিশে শরীরের বিভিন্ন অংশে তথা মস্তিষ্কেও প্রবাহিত হয়। মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষের কতগুলো সুনির্দিষ্ট স্থান যা ক্যানাবিনয়েড রিসেপটর নামে পরিচিত যার সাথে THC এর সংযোগের ফলে ঐ কোষগুলি প্রভাবিত হয়ে ব্যক্তির আনন্দানুভূতি, স্মৃতি, চিন্তা, মনোযোগ, সংবেদন, সময় জ্ঞান এবং চলাচলের সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সরাসরি পরিবর্তন আনে যা ১ থেকে ৩ ঘন্টা স্থায়ী হয়। যদি গাঁজাকে খাদ্যের সংগে বা পানিতে গুলিয়ে নেয়া হয় তবে এর প্রভাব ধীরে ধীরে – সাধারণতঃ আধাঘন্টা থেকে এক ঘন্টা পরে শুরু হয় এবং তা ৪ঘন্টার অধিক স্থায়ী হয়ে থাকে৷ গাঁজা সেবনের কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেবনকারী ব্যক্তির হৃত্‍কম্পন বেড়ে যায়। কোমনালীগুলি শিথিল হয়ে বেড়ে যায় এবং চোখের রক্ত প্রবাহের শিরাগুলি স্ফিত হয় যার কারণে চোখ লাল হয়। হৃত্‍স্পন্দন স্বাভাবিকের (মিনিটে ৭০-৮০বার) চেয়ে বেড়ে যায় কোন কোন সময় দ্বিগুণ হয়ে যায় এবং গাঁজা যদি অন্য কোন মাদকদ্রব্যের সাথে নেয়া হয় তবে এর প্রভাব অনেক বেড়ে যায়। গাঁজা সেবনের প্রায় পরপরই THC ফুসফুসের মধ্য দিয়ে শোধিত হয়ে রক্তপ্রবাহের সাথে মিশে কোষের মেদল অংশের মধ্যে সঞ্চিত হয়। তারপর সাধারণতঃ এক সপ্তাহ বা অনুরূপ সময়ের মধ্যে তা আবার রক্ত প্রবাহের সাথে মিশে যায়। মদ এবং ফেনসিডিল এর মতো পানিতে দ্রবণীয় কোন কোন মাদকদ্রব্য শরীর থেকে দ্রুত বেরিয়ে যায়। কিন্তু THC এর অবশিষ্টাংশ মেদ-কোষে থেকেই যায় এবং এর প্রতিক্রিয়া শেষ না হতেই আরো গাঁজা সেবন করলে ক্রমবর্ধমান প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। যত বেশী মাত্রায় গাঁজা সেবন করা হবে – যত বেশী গাঁজা মিশ্রিত মাদক ধূমপান করা হবে – ততবেশী বিভ্রান্তিকর প্রতিক্রিয়া দেখা দিবে এবং ততবেশী মনশ্চালক ক্রিয়ার ঘাটতি দেখা দেবে। অল্প মাত্রায় সেবন করলেও সেবনকারীর মাঝে মাঝে স্বল্প সময়ের জন্য স্মৃতিভ্রম ঘটে। গাঁজা সেবীদের এইরূপ স্মৃতিভ্রম প্রায়ই ঘটে, তারা একটি সৃজনশীল জটিল বাক্য শুরু করে কখনো তা ভালোভাবে শেষ করতে পারেন না, অসংলগ্ন বা এলোমেলোভাবেই তা শেষ হয়। দীর্ঘদিন গাঁজা সেবন করলে বিশেষ করে মাঝে মাঝে অতিমাত্রায় সেবন করলে সেবনকারীর মধ্যে ‘মস্তিষ্ক বিকার’ কিংবা মনোবিকাররগ্রস্ততা দেখা দেয়, যা উন্মত্ততার শামিল। ব্যক্তি ক্রমে কান্ডজ্ঞান হারিয়ে দৃষ্টি ও শ্রুতিগত হ্যালুসিনেশনে ভোগে। কখনো কখনো ব্যবহারকারীর মধ্যে দেহ নিরপে বিচ্ছিন্নতাবোধ অর্থাত্‍ নিজের পরিচিতি সম্পর্কে ধারণা হারিয়ে ফেলার মতো অবস্থার সৃষ্টি হয় ৷

—শারীরিক ক্ষতি

কমবেশী গাঁজা সেবন করলেই পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, তবে প্রায়ই পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় দীর্ঘদিন ধরে সেবন করলে। যে পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া দেখা যায় তা হলো চোখ ও হাতের সমন্বয়ের দুর্বলতা, যার ফলে গাড়ি চালানো, মেশিনের কাজ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। প্রজনন অমতা, হৃত্‍স্পন্দন বৃদ্ধিতে আতঙ্কগ্রস্ত হওয়া এবং দৃষ্টি ও সময় অনুধাবনে বিভ্রান্তিজনিত অস্থিরতা, মানসিক বৈকল্য ও অবসাদগ্রস্ততাও দেখা দেয়। তামাকের চেয়ে গাঁজা অধিক বিপদজনক কারণ গাঁজা সেবনের সময় সিগারেটের তুলনায় ফুসফুসে অন্তত তিন থেকে চারগুণ বেশী কার্বন-মনোঅক্সাইড ও অন্যান্য ক্ষতিকারক পদার্থ জমা হয়। সিগারেটে যে পরিমান ক্ষতিকর পদার্থ থাকে তার চেয়ে চার পাঁচ থেকে দশ গুণ বেশী থাকে গাঁজায়। ফলে গাঁজা সেবীদের ফুসফুসে ও শ্বাসনালীতে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বেশী। গাঁজা সেবনে রোগ প্রতিরোধ মতা কমে যাবার ফলে সেবনকারীর সংক্রামক রোগ বেশী হয় এবং ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। গবেষণায় দেখা যায় কোন গাঁজা সেবনকারীর সেবনের প্রথম ১ ঘন্টায় হার্টর্এ্যাটাকের ঝুঁকি সাধারণ অবস্থার চেয়ে চারগুণ বেড়ে যায়, কারণ সেবনের ফলে রক্ত চাপ ও হৃত্‍কম্পন বেড়ে যায়। এই মাদকটি গ্রহনে দৃষ্টিভ্রম, বাচালতা, মাংশপেশীর অনিয়ন্ত্রিত ও অপ্রয়োজনীয় সংকোচন, দিকভ্রান্ত হওয়া, মাথা ঘুরা, ক্ষুধা লাগা, গভীর ঘুমে অচেতন হয়ে যাওয়া, সময়জ্ঞান হারানো থেকে শুরু করে প্রলাপ বকা, বিকার আসা এমনকি মানুষকে হত্যাকরার ইচ্ছাও জাগ্রত হতে পারে। মাত্রা বেশী হয়ে গেলে অনেক সময় হাত পা এর নড়াচড়ার নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেলা, হাতে পায়ে ঝি ঝি ধরা এবং অবশ হয়ে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া, মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে যাওয়া থেকে শ্বাস কষ্ট হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। নিয়মিত এবং বেশী মাত্রায় গাঁজা জাতীয় দ্রব্য সেবনে গাঁজা সাইকোসিস নামে একধরনের লক্ষন হয়। এতে চোখে রক্তজমে চোখ লাল হয়ে যায়, ক্ষুধামন্দা, নির্জিবতা, শরীরের মাংস-পেশী শুকিয়ে যাওয়া, অত্যাধিক দুর্বলতা, হাত-পা অনবরত কাপতে থাকা, পুরুষত্বহীনতা থেকে শুরু করে পুরোপুরি মানসিক রোগী হয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে। রানিং এমোক নামক আরেক ধরনের মানসিক বিপর্যয় ও গাঁজা সেবিদের পরিণতি হয়ে আসতে পারে। অবিরত গাঁজা সেবনের কারনে অনেক সময় এদের দৃষ্টিভ্রম, নির্যাতিত-বঞ্চিত হবার কল্পনা থেকে এরা হিংসাত্মক, আগ্রাসি সন্ত্রাসীর ভূমিকায় অবতীর্ন হতে পারে। রানিং এমক হলে লোকটি চোখের সামনে যাকে পায় তাকে তার কল্পিত শত্রু মনে করে অস্ত্র নিয়ে হত্যা করতে পারে এবং এই মানসিক অবস্থা কেটে যাবার আগ পর্যন্ত যাকে সামনে পায় ক্রমান্বয়ে তাকেই হত্যা করার চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে। এই আবেশ কেটে গেলে একসময় সে আত্মহত্যা করতে যেতে পারে অথবা আত্মসমর্পনও করতে পারে। যদি কোন নারী গর্ভাবস্থায় গাঁজা সেবন করে তবে সাধারণত এর প্রভাব তাদের শিশুদের উপরও পড়ে। শিশুদের জ্ঞানের ঘাটতি সহ আরো অন্যান্য সমস্যা দেখা দেয়।

    —–উপকারিতা—–

গাঁজায় আসক্তি হলে, বা সে আসক্তি বাড়াবাড়ি পর্যায়ে গেলে জীবনে বিপদ ডেকে আনতে পারে। তবে গবেষকরা বলছেন পরিমাণমতো গাঁজা ওষুধ হিসেবে সেবন করলে অনেক উপকার পাওয়া যায়।
জেনে নিন পরিমাণমতো গাঁজা সেবনের নয়টি উপকারিতা।
মৃগীরোগ কমায়:
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ২০১৩ সালেই জানিয়েছেন, মারিজুয়ানা বা গাঁজা একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় নিলে মৃগী বা এ ধরণের কিছু স্নায়ুরোগ থেকে দূরে থাকা যায়। বিজ্ঞান বিষয়ক সাময়িকী জার্নাল অফ ফার্মাকোলজি অ্যান্ড এক্সপেরিমেন্টাল থেরাপিউটিক্স-এ ছাপাও হয়েছে তাদের এই গবেষণালব্ধ তত্ত্ব।
গ্লুকোমা দূরে রাখতে সহায়তা করে:
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল আই ইন্সটিটিউট জানিয়েছে, মারিজুয়ানা গ্লুকোমার ঝুঁকিও কমায়। গ্লুকোমা চোখের এমন এক রোগ যা চির অন্ধত্ব ডেকে আনে।
আলৎসহাইমার শত্রু:
দ্য জার্নাল অফ আলৎসহাইমার’স ডিজিজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মারিজুয়ানা মস্তিষ্কের দ্রুত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়াও রোধ করে। আর এভাবে আলৎসহাইমার ঝুঁকিও কমাতে পারে মারিজুয়ানা। তবে মারিজুয়ানা ‘ওষুধ’ হলেই রোগ সারাবে, কারো নিয়ন্ত্রণহীন আসক্তির পণ্য হলে নয়।
ক্যানসার প্রতিরোধ:
এই বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র সরকারিভাবেই স্বীকার করেছে। ২০১৫ সালে সে দেশের ক্যানসার বিষয়ক ওযেবসাইট ক্যানসার অর্গ-এ জানানো হয়, মারিজুয়ানা অনেক ক্ষেত্রে টিউমারের ঝুঁকি কমিয়ে ক্যানসার প্রতিরোধকেরও ভূমিকা পালন করে।
কেমোথেরাপির ক্ষতি কম:
ইউএস এজেন্সি ফর ড্রাগ জানিয়েছে, মারিজুয়ানা ক্যানসার রোগীর রোগযন্ত্রণা অন্যভাবেও কমায়। ক্যানসার রোগীকে এক পর্যায়ে কেমোথেরাপি নিতে হয়। কেমোথেরাপির অনেক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া। মারিজুয়ানা কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াজনিত অনেক ক্ষতি লাঘব করে।
স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়:
এটি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ নটিংহ্যামের গবেষকদের উদ্ভাবন। তারা গবেষণা করে দেখেছেন, মারিজুয়ানা মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতেও সহায়তা করে। ফলে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে।
মাল্টিপল সক্লেরোসিসবিরোধী:
মানুষের স্নায়ুতন্ত্রে একটি বিশেষ স্তর ক্ষতিগ্রস্থ হলে ‘মাল্টিপল সক্লেরোসিস’ বা এমএস নামের এক ধরণের স্নায়ুরোগ হয়। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী মারিজুয়ানা সেবন করলে এই রোগের ঝুঁকিও কমে।
ব্যথা নিরোধ:
ডায়াবেটিস চরম রূপ নিলে রোগীদের অনেক সময় হাত-পা এবং শরীরের নানা অংশে জ্বালা-যন্ত্রণা হয়। ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষকরা বলছেন, ক্যানাবিস সেই যন্ত্রণা লাঘব করতে সক্ষম।
হেপাটাইটিস’সি-র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমায়:
হেপাটাইটিস সি-র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও কমায় মারিজুয়ানা। নির্দিষ্ট মাত্রায় ওষুধের মতো গাঁজা সেবন করিয়ে দেখা গেছে এই রোগে আক্রান্তদের শতকরা ৮৬ ভাগেরই পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া অনেক কমেছে।

পড়ে ভালো লাগলে আপনার পাশের জনকে ও জানাবেন, এভাবে সভাইকে জানিয়ে সতর্ক করুন।

KAISHER

I'm a web Developer, goodly skilled in WordPress, Creative Researcher, I having good experience in Web Technologies. I am much Experience in WordPress, Bootstrap, HTML, CSS, PHP. Have some extra knowledge about writing and content making.

Leave A Comment